পর্যটনকেন্দ্রে নিরাপত্তাহীনতা ও চাঁদাবাজির দৌরাত্ম্য: পারকি সমুদ্র সৈকতে পর্যটক হয়রানির চিত্র
ভাম্র্যমান প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার পারকি সমুদ্র সৈকত দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় ও দূরদূরান্তের পর্যটকদের কাছে অন্যতম প্রিয় গন্তব্য। তবে মনোরম প্রকৃতি ও সাগরের বিশালতার আড়ালে এই সৈকতটি এখন গড়ে উঠেছে কিছু স্থানীয় চক্রের নৈরাজ্য, অবৈধ চাঁদা আদায় এবং দর্শনার্থী হয়রানির নিরাপদ কেন্দ্রে। সম্প্রতি পারকি সৈকতে পরিবার কিংবা স্বজন নিয়ে ঘুরতে যাওয়া সাধারণ দর্শনার্থীরা যেভাবে অবৈধ পার্কিং টোল ও মৌখিক-শারীরিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন, তা চট্টগ্রামের পর্যটন শিল্পের জন্য এক অশনিসংকেত।
ঘটনার সূত্রপাত একটি সিএনজি অটোরিকশাকে কেন্দ্র করে। সৈকতে প্রবেশের মুখে অটোরিকশা থামিয়ে ‘টোল’ বা ‘পার্কিং ভাড়া’-র নামে ২০ টাকা দাবি করা হয়। অথচ অটোরিকশাটি সাধারণ যাত্রীদের নামিয়ে দিতে আসছিল, কোনো গাড়ি পার্ক করার উদ্দেশ্যে সেখানে থামেনি। যখন দর্শনার্থীরা এর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে সৈকতে যেতে চান, তখনো তাদের বাধা দেওয়া হয়। তাদের স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, সেখানে নামতে গেলেও টাকা দিতে হবে। টোলের নাম করে এই অর্থ আদায়কে যখন ‘সরকারি নিয়ম’ বলে দাবি করা হয় এবং কোনো ব্রিজ বা নির্ধারিত পার্কিং জোন ছাড়া কিসের টাকা—এমন প্রশ্ন তোলা হয়, তখনই বেরিয়ে আসে টোল আদায়কারীদের আসল রূপ।
সরকারি নিয়মের সততা যাচাই এবং বিষয়টি নথিভুক্ত করার জন্য যখন ওই স্থান ও সেটআপের ছবি তোলার চেষ্টা করা হয়, তখন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। কথিত টোল আদায়কারীরা চড়াও হয় দর্শনার্থীদের ওপর। “ছবি তোলার পারমিশন নিয়েছেন?”, “আমরা কি আপনার বাপের কেনা চাকর?”—এমন সব অশালীন ও কদর্য ভাষায় গালাগালি শুরু করে তারা। শুধু গালিগালাজেই সীমাবদ্ধ থাকেনি চক্রটি, ৩-৪ জন মিলে হাতাহাতি ও মারধরের হুমকি দেয়, এমনকি চেয়ার তুলে জখম করার অপচেষ্টাও চালানো হয়। সর্বশেষে, জোরপূর্বক মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে গ্যালারি ও ‘Recently Deleted’ ফোল্ডার থেকে ছবি মুছে ফেলতে বাধ্য করা হয়। একজন সাধারণ নাগরিকের ব্যক্তিগত মোবাইল কেড়ে নেওয়া এবং গায়ে হাত তোলার মতো ঔদ্ধত্য প্রমাণ করে এরা কতটা বেপরোয়া।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি বেশ কিছু মৌলিক প্রশ্ন তুলে ধরে:
অবৈধ চাঁদা না সরকারি টোল? পারকি সমুদ্র সৈকতের প্রবেশমুখে অটোরিকশা বা অন্যান্য যানবাহন থেকে ২০ টাকা আদায়ের এই নিয়ম কবে থেকে এবং কোন আইনি ভিত্তিতে চালু হয়েছে? কোনো বৈধ ইজারা বা ইজারাদারের স্পষ্ট সাইনবোর্ড ছাড়া এমন অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
মন্তব্য লিখুন
আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো * চিহ্নিত।