চট্টগ্রামে পাসপোর্ট ও মোবাইল বন্ধকে সুদের কারবার: ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে বাড়ছে শঙ্কা
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম:
চট্টগ্রামের লালখান বাজার (১৪ নম্বর ওয়ার্ড)সহ নগরী ও গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় মানুষের অসহায়ত্ব ও জরুরি প্রয়োজনকে পুঁজি করে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে সুদের কারবার। সাধারণ মানুষের রক্তপানি করা টাকা আর অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে গড়ে উঠেছে একশ্রেণির সুদি কারবারির চক্র।
সম্প্রতি এই এলাকায় দেখা যাচ্ছে ঋণ নেওয়ার বিনিময়ে পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র বা মূল্যবান মোবাইল ফোন জমা রাখার নজিরবিহীন প্রবণতা। জরুরি চিকিৎসার খরচ, ব্যবসার পুঁজি কিংবা প্রবাসে যাওয়ার তাগিদে মানুষ এসব ব্যক্তিগত নথি ও জিনিসপত্র বন্ধক রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে টাকা পরিশোধে সামান্য বিলম্ব হলেই শুরু হয় চড়া সুদের চাপ ও ব্ল্যাকমেইলিং।
বাংলাদেশ ব্যাংক ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী, লাইসেন্স বা কোনো আইনি অনুমোদন ছাড়া ব্যক্তিগতভাবে সুদের ব্যবসা পরিচালনা সম্পূর্ণ অবৈধ। বিশেষ করে পাসপোর্ট বা এনআইডির মতো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ নথি বন্ধক রেখে ঋণ দেওয়ার কোনো আইনি সুযোগ নেই। তা সত্ত্বেও প্রকাশ্যে এবং গোপনে ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের একাধিক পয়েন্টে এই অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে প্রভাবশালী সুদি চক্র।
ভুক্তভোগীদের মতে, জরুরি বিপদে পড়ে চড়া সুদে টাকা নিয়ে অনেকে এখন নিঃস্ব হওয়ার পথে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি—বিপদগ্রস্ত মানুষের দুর্বস্থার সুযোগ নিয়ে গড়ে ওঠা এসব অবৈধ সুদের কারবার অবিলম্বে বন্ধে স্থানীয় প্রশাসন, সিটি কর্পোরেশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জোরালো নজরদারি ও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
মন্তব্য লিখুন
আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো * চিহ্নিত।